বিশ্বেজুড়ে রহস্যময় ৫ ঘটনা যার সংজ্ঞা আজও অজানা। পর্ব – ২

256
বিশ্বেজুড়ে রহস্যময় ৫ ঘটনা যার সংজ্ঞা আজও অজানা

পুরো বিশ্বটাই যেন রহস্যের এক বিরাট আধার। এর মধ্যে কিছু ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা গেলেও এখনও অনেক ঘটনাই রয়েছে যার রহস্য আজও সকলের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। বিজ্ঞানের এই অভাবনীয় উন্নতি ও উৎকর্ষের যুগেও বিশ্বের কোন কোন স্থানে এখনো এমন রহস্যপূর্ণ যে, এ রহস্যের কোন কিনারা আজও মেলেনি।
এছাড়াও বিশ্বে আরো বহু অমীমাংসিত রহস্য রয়েছে যার সমাধান সম্ভব হয়নি হাজার বছরেও । বিশ্বের এ ধরনের রহস্যময় ও অদ্ভূত ৫টি ঘটনা নিয়ে আজকের আয়োজন। চলুন জেনে নেওয়া যাক বিশ্বের রহস্যময় ঘটনা গুলো ।

১। এরিয়া ৫১:

এরিয়া ৫১

আমেরিকানদের চরম একটি গোপনীয় সামরিক ঘাটি। কোন সাধারণ মানুষ এর পক্ষে এর রহস্যভেদ করা আজও সম্ভব হয়নি। এমনকি এই ঘাটির আসল কাজ কি সে সম্পর্কে জানতে চেয়েও মেলেনি এর সঠিক উত্তর। এই ঘাটির কাছাকাছি মাঝে মাঝেই অদ্ভূত সব আকাশযান দেখতে পাওয়া যায় । যেগুলো পৃথিবীর আকাশযান থেকে সম্পূর্ন আলাদা । অপরিচিত কাউকে দেখা মাত্রই গুলি করা হবে এরকম নির্দেশ ঝোলানো আছে এই ঘাটির চারপাশে। ভিতরে কি আছে বা কি হচ্ছে এর ভিতরে, কোনভাবেই অন্য কোন মানুষ এর পক্ষে তা জানা সম্ভব নয়। অনেকে ধারণা করে যে এলিয়েনরা পৃথিবীর সাথে নিয়মিত যোগযোগ করেছে।
নিয়মিত তারা আসছে পৃথিবীতে। আর এর মাধ্যম হচ্ছে এরিয়া ৫১। কথিত আছে পৃথিবীর মানুষরা যাতে ভুলেও কোন কিছু দেখতে বা জানতে না পারে সেজন্যই সেখানে এত গোপনীয়তা রাখা হয় । এই ব্যাপরটি নিয়ে কোন প্রশ্ন এলেই আমেরিকান সরকার তা সবসময় এড়িয়ে যায়।

২। প্রিন্সেস ডায়নার হত্যাকান্ড :

প্রিন্সেস ডায়নার হত্যাকান্ড

বিশ্বের আরোও একটি বিতর্কিত রহস্যময় ঘটনা হল প্রিন্সেস ডায়নার হত্যাকান্ড। ১৯৯৭ সালে প্রিন্সেস ডায়না এবং তার প্রেমিক ফায়াদ এক ভয়াভহ গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যায়। খালি চোখে এটা দুর্ঘটনা মনে হলেও বিশেষজ্ঞগণ এর মতে ব্রিটিশ রাজপরিবারের নির্দেশে ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা MI6 এই দূর্ঘটনার আড়ালে এই ভয়াভহ হত্যাকান্ডটি ঘটিয়েছিলো। অনেকে মনে করেন প্রিন্সেস ডায়নার তুমুল জনপ্রিয়তা, সত্যবাদিতা এবং রাজপরিবারের সমালোচনা ব্রিটিশ রাজ পরিবারকে বিব্রত এবং অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলে দিয়েছিলো। আবার ফায়াদের সাথে প্রিন্সেস ডায়নার সম্পর্ক ব্রিটিশ রাজপরিবার এবং ইংল্যান্ডের জন্য জাতীয় নিরাপত্তার এক বিশাল ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছিলো, তাই হয়তো এই হত্যাকান্ডটি ঘটানো হয়েছিল।

৩। ২০০৪ সালের ভারত মহাসাগরের সুনামি:

২০০৪ সালের ভারত মহাসাগরের সুনামি

২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর ছিল এশিয়ার মানুষদের জন্য খুব বেদনাদায়ক একটি দিন। এশিয়ার সমুদ্ররের পাশ্ববর্তী দেশগুলোর মানুষেরা এদিন প্রকৃতির এক ভয়াবহ ও নিষ্ঠুর রূপ দেখতে পায়। বিশাল আকারের এই প্রকৃতিক দুর্যোগ আছড়ে পড়ে সমুদ্র পার্শ্ববর্তী বেশ কয়েকটি দেশে। এর ফলে ১৪টি দেশের ২,৩০,০০০ থেকে ২,৮০,০০০ জন মানুষ মারা যায় এবং উপকূলিয় অঞ্চল ৩০ মিটার (১০০ ফু) ঢেউয়ে প্লাবীত হয়। এটি লিপিবদ্ধ করা ইতিহাসে সবচেয়ে মারাত্মক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যে একটি। টইন্দোনেশিয়াকে কঠিনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে চিহ্নত করা হয়,এর পর শ্রীলংকা, ভারত ও থাইল্যান্ড কে পর্যায় ক্রমে ধরা হয়। বিশ্ববাসী কখনোই প্রকৃতির এই নিষ্ঠুর ও ভয়াবহ রূপ ভুলতে পারবে না। কিন্তু মিশরসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের সংবাদপত্রের দাবী এর পিছনে বিশ্বের শক্তিশালী বেশ কয়েকটি দেশের হাত রয়েছে। গোপনীয় পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা চালাতে গিয়ে দূর্ঘটনাক্রমে বিস্ফোরণে এই সুনামীর সৃষ্টি হয় বলে ধারণা করেন অনেকে।

৪। Fluoride প্রয়োগ :

Fluoride প্রয়োগ

দাতের ক্ষয়রোধ করার জন্য পানযোগ্য পানিতে Fluoride মেশানো হয় এটা আমরা সবাই কম বেশি সবার জানা।
আবার বৈজ্ঞানিকভাবেই এটি প্রমাণিত যে এই Fluoride এর অনেক খারাপ দিকও আছে। এর বিভিন্ন রকম পার্শ্বপ্রতিকিয়া মানুষের শরীরকে বিভিন্নভাবে আক্রান্ত করে। দেখা দেয় নানা রকম রোগ। একদল গবেষক এর ধারণা এসব জানা সত্ত্বেও WHO এই Fluoride প্রয়োগকে বাঁধা দিচ্ছে না। কারণ এর পিছনে রয়েছে বিশাল এক ব্যবসা। এর পিছনে রয়েছে বিশাল বিশাল সব ঔষুধ কোম্পানী, বোঝাই যাচ্ছে এর পেছেনের বিশাল কাহিনী।
কারন মানুষ অসুস্হ থাকলেই তো এদের লাভ। আর মানুষ যদি অসুস্হ না থাকে তাহলে এত ঔষুধ কোম্পানী চলবে কি করে !!

৫। ২০১২ রহস্য:

২০১২ রহস্য

সবথেকে হাস্যময় রহস্যময় বড় ঘটনাটি ঘটে ২০১২ সালে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এই গুজব নিয়ে।যদিও অনেকে অবশ্য হেসেই উড়িয়ে দিয়েছে এই ব্যাপারটিকে। কিন্তু এর পক্ষের লোকও ছিল অনেক। প্রচুর মানুষ বিশ্বাস করেছিল ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে ধ্বংসযজ্ঞ নেমে আসবে এই পৃথিবীর বুকে। ধ্বংস হয়ে যাবে সবকিছু।মায়ানদের ক্যালেন্ডারের সমাপ্তি এবং নষ্ট্রাডমাস এর কিছু ভবিষ্যৎবাণীর কারণে এর এই বিশ্বাস ছড়িয়ে পড়েছিল সমগ্র বিশ্বে। অনেকে আবার বিশ্বাস করেছিলো হয়তো ধ্বংস হবে না কিন্তু বিশাল এক পরিবর্তন আসবে পৃথিবীর উপর এই সময়ে। কিন্তু সব কল্পনা, ভবিষ্যৎবাণীকে মিথ্যা প্রমান করে পৃথিবী আজও চিরজীবী হয়ে রয়েছে।

আপনার কাছে কেমন লেগেছে এই ফিচারটি?

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry

পাঠক মতামতঃ