বিশ্বেজুড়ে রহস্যময় ৫ ঘটনা যার সংজ্ঞা আজও অজানা। পর্ব -১

118
বিশ্বেজুড়ে রহস্যময় ৫ ঘটনা যার সংজ্ঞা আজও অজানা।

পুরো বিশ্বটাই যেন রহস্যের এক বিরাট আধার। এর মধ্যে কিছু ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা গেলেও এখনও অনেক ঘটনাই রয়েছে যার রহস্য আজও সকলের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। বিজ্ঞানের এই অভাবনীয় উন্নতি ও উৎকর্ষের যুগেও বিশ্বের কোন কোন স্থানে এখনো এমন রহস্যপূর্ণ যে, এ রহস্যের কোন কিনারা আজও মেলেনি। এছাড়াও বিশ্বে আরো বহু অমীমাংসিত রহস্য রয়েছে যার সমাধান সম্ভব হয়নি হাজার বছরেও । বিশ্বের এ ধরনের রহস্যময় ও অদ্ভূত ৫টি ঘটনা নিয়ে আজকের আয়োজন। চলুন জেনে নেওয়া যাক বিশ্বের রহস্যময় ঘটনা গুলো ।

১। বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল :

বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল

বিশ্বের রহস্যময় ঘটনা গুলোর মধ্যে অন্যতম রহস্যের নাম বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল।  যুগ যুগ ধরে চির রহস্যময় একটি জায়গার রহস্য আজও মানুষ উদঘাটন করতে পারেনি। কেন এর কাছাকাছি কোন যাত্রীবাহী জাহাজ অথবা উড়োজাহাজ গেলে আর খুঁজে পাওয়া যায় না? কেন ই বা এর কাছাকাছি গেলে মানুষ সব অদ্ভুত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়? এ রকম হাজারো প্রশ্নে ঘেরা এক রহস্যের নাম বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল। যেমনি রয়েছে হাজারো প্রশ্ন, ঠিক তেমনি রয়েছে হাজারো উত্তর। একদল গবেষক মনে করেন এই সমুদ্রের নীচে রয়েছে অন্য গ্রহের মানুষের বসবাস, তারাই এই সকল ঘটনার জন্য দায়ী। আবার অনেকে মনে করেন হয়তো কোন অদ্ভুত কারণে পৃথিবীর সাথে বাইরের কোন গ্রহের অদৃশ্য একটি দরজা সৃষ্টি হয়েছে। হয়ত এসকল জাহাজ বা প্লেন সেই অদৃশ্য দরজার ফাদে পড়ে চলে যায় অন্য কোন গ্রহে। এসব হাজারো উত্তরের ভিড়েও সঠিক উত্তর যে আজও আজানা আর কে ই জানে সঠিক উত্তর মিলবে কি, মিলবে না!!

২। Elvis Presley এর মৃত্যু রহস্য :

Elvis Presley

এক কালের বিখ্যাত ও তুমুল জনপ্রিয় গায়ক Elvis Presley এর নাম শুনেননি এমন মানুষ খুব কমই আছে।
বিশ্বজুড়ে রয়েছে তার অগণিত ভক্ত। এখনও মানুষ তার গান শুনে যায় এবং পছন্দ করে। বিখ্যাত এই গায়ক কে নিয়েই রয়েছে মৃত্যু রহস্য। বিখ্যাত এই গায়ক তরুণ বয়সেই জনপ্রিয়তার এক বিশাল রাজ্যে প্রবেশ করে।
১৯৭৭ সালে হঠাৎ করেই এই মহান গায়ক মারা যান। অনেকে মনে করেন এই জনপ্রিয়তাই নাকি তার মৃত্যুর কারণ। কিন্তু একদলের দাবী সেই সময় নাকি আসলেই Elvis মারা যাননি। তিনি নিজের মৃত্যু ঘটয়ে লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান। তারা দাবি করেন অনেকে নাকি এরপরও Elvis Presleyকে দেখেছেন! পরবর্তীতে তারা আরোও প্রচার করেন যে Elvis Presley এর আসল মৃত্যু নাকি হয় ১৯৯০ সালে। আসলেই কি Elvis Presley এর মৃত্যু হয়েছিল নাকি পুরো টাই একটা নাটক ! সেই রহস্য আজও সকলের আজানা।

৩। লন্ডনের সিরিজ বোমা বিস্ফোরন :

লন্ডনের সিরিজ বোমা বিস্ফোরন

২০০৫ সালের ৭ই জুলাই শুধু মাত্র ইংল্যান্ডের জন্য নয় তথা সম্পূর্ণ বিশ্ববাসীর জন্য এটি ছিল খুবই বেদনায়ক ও ভয়াবহ একটি দিন।ভূগর্ভস্হ ট্রেনস্টেশনে পরপর কয়েকটি বিশাল ভয়াবহ সিরিজ বোমা বিস্ফোরনে সেদিন প্রাণ হারাতে হয়েছিলো অসংখ্য নিরপরাধ মানুষকে। বিভিন্ন জঙ্গি সংঘটনকে দায়ী করা হয় এই হামলার জন্য। হামলাকারীদের বিভিন্ন ফুটেজও প্রকাশ করা হয়। আসলে কে করেছিল এই হামলাটি? এটি কি তাহলে ছিলো ক্ষমতাশালী দেশগুলোর সাজানো কোন নাটক? হামলাকারীর ছবিটি দেখুন। এর নাম Mohammed Sidique Khan সে এই ঘটনার সুইসাইড হামলার একজন আসামী।বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই ছবিটি কোনভাবেই আসল হতে পারে না। জায়গাসহ সব ঠিক আছে। কিন্তু খুব সূক্ষভাবে লক্ষ্য করলে এবং পরীক্ষা করলে খেয়াল করা যাবে ছবির লোকটিকে আলাদা করে ছবিতে বসানো হয়েছে। পুরো ছবিটিই নকল। আবার অনেকে বলেন বোমগুলো হামলাকারীদের ব্যাকপ্যাক থেকে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়নি। এগুলো আগে থেকেই সেখানে রাখা ছিলো। মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকানদের সাথে যুদ্ধে নিজেদের অংশগ্রহনকে দেশবাসীর বৈধতা দেবার জন্য এই হামলা ঘটানো হয়েছিলো বলে অনেকের ধারণা।

৪। চাঁদে পদার্পন :

চাঁদে পদার্পন

এটি বহু পুরানো একটি আলোচনা। সালটি ছিল ১৯৬৯ এটি ছিল পৃথিবীর জন্য একটি সপ্নের বছর। সপ্নকে সত্য করার বছর। এই দিন পৃথিবীর মানুষেরা প্রথম চাঁদে তার পদধূলী রাখে। চাঁদ কে জয় করে অসম্ভবকে সম্ভব করে ফেলে মানুষ। তখন অনেকে এর বিরোধিতা করেন। তারা বলেন ১৯৬৯ সালে মানুষ চাঁদকে জয় করতে সক্ষম হয়নি। তারা কারন হিসাবে বলে তখনকার যেসকল প্রযুক্তি ছিল তা দিয়ে চাঁদে যাওয়া সম্পূর্ণভাবে অসম্ভব। তারা মনে করেন মার্কিনীরা তখন সম্পূর্ণ ঘটনাটি শুটিং করে মানুষদের সামনে তুলে ধরেন এবং তাদের এ ধারনা যে স্ট্যানলি কুবরিক ছিলেন এর পরিচালক।

৫। HIV ভাইরাস :

HIV

AIDS হছে একটি মরণব্যাধি রোগ। যার চিকিৎসার উপায় এবং ঔষুধ এখন পর্যন্ত গবেষকরা আবিষ্কার করতে পারেনি। বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে মরণব্যাধী রোগ হোল এটি। প্রতিবছর বিশেষ করে আফ্রিকার প্রায় প্রচুর মানুষ মারা যাচ্ছে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে। Dr William Campbell Douglass প্রথমে একটি থিওরি দেন, পরে অনেক চিকিৎসক তাকে সমর্থন জানান। উনার মতে HIV ভাইরাসটি ১৯৭৪ সালে WHO এর পরিকল্পনা অনুযায়ী ল্যাবটেরীতে গবেষণা করে বানানো হয়েছিলো। বিশ্ব জনসংখ্যা কমানোর জন্য এটি বানানো হয়। পরে বিভিন্নভাবে এই ভাইরাসটি সম্পূর্ণ আফ্রিকায় ব্যাপক হারে ছড়িয়ে দেয়া হয়। আরেকদল বলে CIA অথবা KGB এই দুটির সংস্থার যেকোন একটি নিজেদের স্বার্থের জন্য এই ভাইরাসটি বানিয়েছিলো। কিন্তু কোন একটি দূর্ঘটনার কারনে সম্পূর্ণ পৃথিবীতে এটি ছড়িয়ে পড়ে।

আপনার কাছে কেমন লেগেছে এই ফিচারটি?

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry
81

পাঠক মতামতঃ